| বঙ্গাব্দ

রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলমকে গুলি করে হত্যা | ১৬ মাসে ১৯ খুন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-01-2026 ইং
  • 2576645 বার পঠিত
রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলমকে গুলি করে হত্যা | ১৬ মাসে ১৯ খুন
ছবির ক্যাপশন: যুবদল নেতা জানে আলম

রক্তাক্ত রাউজান: ১৬ মাসে ১৯ খুন, এবার প্রাণ গেল যুবদল নেতা জানে আলমের

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতার মিছিলে যুক্ত হলো আরও একটি নাম। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের শিকদারবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যুবদল নেতা জানে আলমকে (৫০)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই হত্যাকাণ্ড রাউজানের থমথমে পরিস্থিতিকে আরও বিষিয়ে তুলেছে।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলযোগে আসা একদল দুর্বৃত্ত জানে আলমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলি তার বুকে বিদ্ধ হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নগরীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানে আলম ওই এলাকার মৃত হামদু মিয়ার ছেলে এবং তিনি বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন।

রাউজানে মৃত্যুর মিছিল: পরিসংখ্যানের ভয়াবহতা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৬ মাসে কেবল রাউজানেই ১৯ জন খুন হয়েছেন, যার মধ্যে ১৩টিই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এই সময়ে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে ৩২টি, যাতে অর্ধশতাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

  • ১৯ এপ্রিল ২০২৫: বাগোয়ানে যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ মানিককে মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়।

  • ২২ এপ্রিল ২০২৫: গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী ইব্রাহীম নিহত হন।

  • ৬ জুলাই ২০২৫: কদলপুরে নিহত হন যুবদল নেতা মো. সেলিম।

  • পৌরসভা এলাকা: যুবদল নেতা আলমগীর আলমকেও একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ চট্টগ্রামের রাজনীতির ইতিহাসে রাউজান সবসময়ই একটি 'হটস্পট' হিসেবে পরিচিত। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৩০-এর মাস্টারদা সূর্যসেনের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষের রক্ত গরম করা ইতিহাস রয়েছে। তবে ১৯৪৭ ও ১৯৭১-এর পরবর্তী সময়ে রাউজানের রাজনীতিতে এক ধরণের পেশিশক্তির মহড়া শুরু হয়।

বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সাল জুড়ে রাউজানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রকট হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতা এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯০০ সালের বিপ্লবীদের ত্যাগের ভূমি রাউজান এখন রাজনৈতিক হানাহানির জনপদে পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক দ্বন্দ ও স্থানীয় বিরোধ জানে আলম সম্প্রতি একটি চাঁদাবাজি মামলায় জেল খেটে মুক্তি পেয়েছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার অথবা পুরোনো শত্রুতার জেরে এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হওয়ায় এই হত্যার পেছনে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল না কি প্রতিপক্ষের হাত রয়েছে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

উপসংহার রাউজানে গত ১৬ মাসে ১৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, সেখানে আইনের শাসনের চেয়ে অস্ত্রের ভাষা বেশি শক্তিশালী। ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে যদি এই ‘মরণখেলা’ বন্ধ না হয়, তবে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ১৯০০ সালের সেই বীরত্বগাথার রাউজান আজ কেবল লাশের পরিসংখ্যান হয়ে গণমাধ্যমে শিরোনাম হচ্ছে।


সূত্র: ১. রাউজান থানা ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অপরাধ রেকর্ড (জানুয়ারি ২০২৬)।

২. স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সংগৃহীত তথ্য।

৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক অপরাধ ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ইতিহাস আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency